কলকাতা পেইন্টার্সের জন্ম হয়েছিল এক বিশেষ অঙ্গীকারকে স্কন্ধে নিয়ে ১৯৬৪ সালের জানুয়ারি মাসে, এক বিশেষ মুহূর্তে। চিত্রকলা অঙ্গনকে সকল রকম গতানুগতিকতা থেকে মুক্ত করবার দায় নিয়েই এই গোষ্ঠীর জন্ম। বিষয়ে, প্রকরণে, ঐতিহ্যভাবনায় যে-ধারা চলছিল, তা কোনোভাবেই কোনো সৃজনশীল মানুষের কাছে কাম্য ছিল না। এই অভাববোধ থেকে কলকাতা পেইন্টার্স চিত্রশিল্পের অঙ্গনে প্রবহমান ধারাকে প্রথামুক্ত করবার জন্য প্রয়াসী হয়েছিল। এভাবেই নানা কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে তাঁদের সৃজন উদ্যানে এক নব্য ভাবনার সঞ্চার হয়েছিল। তাঁদের কাজে বিদ্রোহ যেমন ছিল, তেমনি ছিল তাঁদের সৃজনবেগে শিল্পরুচিকে প্রাধান্যদানের প্রবণতা।
দেশভাগের ফলে সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু সমস্যা যে আর্থনীতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল তার ফলে সমাজবিন্যাস ভেঙে পড়েছিল এবং মানবিক বোধ ও সম্পর্কও ক্ষুণ্ন হয়েছিল।
ষাটের দশকের প্রারম্ভে এই পটভূমিতে কলকাতা শহরের সামাজিক-রাজনৈতিক আবহে ও বাস্তবতায় এই গোষ্ঠীর জন্ম। মুগ্ধ রোমান্টিকতাকে পরিহার করে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁদের সৃজনে জীবনের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিফলনে সর্বদা প্রয়াসী হয়েছেন। তাঁদের সংকল্প ও অভিপ্রায় ছিল একদিকে প্রথা থেকে মুক্তি, গতানুগতিকতা থেকে মুক্তি, অন্যদিকে জীবনের নানা দিককে ক্যানভাসে ও সৃষ্টিতে প্রতিফলন, চিত্রে শিল্পগুণ সঞ্চার এবং রূপায়ণ ও সৃষ্টিতে আধুনিকতাবোধের উজ্জীবন। গোষ্ঠীসদস্যদের এই দায় ও অঙ্গীকারই তাঁদের দীর্ঘ পথচলায় প্রেরণা জুগিয়েছে এবং দেশে ও বিদেশে তাঁদের সৃজনকর্ম আদৃত হয়েছে। সুন্দরের অভ্যর্থনায় এবং সৃষ্টির উন্মুখতায় এ গোষ্ঠীর আজো কোনো বিরাম নেই। চিত্রসাধনা ও চর্চায় এ গোষ্ঠী নিত্যনতুন স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। তাঁদের সৃষ্টিকর্মে বহুভাবনার বিচ্ছুরণ চিত্র-উদ্যানকে আলোড়িত, সঞ্জীবিত ও প্রাণিত করছে-এ ব্যাপারে আজ আর কোনো সন্দেহ নেই।
বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ কলকাতা পেইন্টার্সের পথচলা ও সখ্য শীর্ষক প্রদর্শনী আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় আরো একটি নবস্বাক্ষর রাখলো। |